শুক্রবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২১

***চুপকথা***

 -------@ #আবির_সাহানা


চিলেকোঠার ছাদে থেমে গেছে শীতের পড়ন্ত দুপুর ;
হলুদের চিহ্ন এঁকে যায় টুকরো রোদ ঘুলঘুলিতে ।
মাছরাঙা, মাছের ছোঁয়াছুঁয়ি খেলা,
জলপিপি বাতাসের ঢেউয়ে ডানা ভেজায়,
নীরব জানালা কার অপেক্ষায় মনের দরজা খুলে ।
এমনি কতো দুপুর লুকোচুরি খেলে গেছে
পিচঢালা পথে, অরণ্যের ঝরাপাতায় ।
পরশপাথর খুঁজে ফেরা ক্ষ্যাপা হার মানে আব্বুলিশে ।
ক্ষণিকের আসা-যাওয়া, কাছে পাওয়া ;
সময়ের স্রোতে চেনা হয়ে ওঠা অচেনা পথ--
হাঁটতে শেখায় ধূ-ধূ বুকে আকাশের মোহনায় ।
কুহুর ডাকে গন্ধ মাখে মহুল-পাতা ;
অনাগত বসন্তের পলাশিয়া আগুন ফাগুন
আবিরের রং ছড়ায় গাছে গাছে, ফুলশাখে ।
বেলাশেষে গোধূলির আঁচলে ঘোমটা টানে সন্ধ্যামণি ।
তোর দিনলিপি লেখা ছেঁড়া পাতা দেরাজ-বন্দী ।
তবু, রাত নামলে গুটিগুটি পায়ে ঢুকে পড়ে শিরায় শিরায়,
আর ফুসফুসের নোনা রক্তে শরীর ভিজিয়ে
রোজ একটা চেনা গল্প আঁকে স্মৃতির ক্যানভাসে--
সন্তর্পণে, খসে পড়া তারাদের চুপকথায় ।

***উপেক্ষিত কথামালা***

        -------@ #আবির_সাহানা


       ইতস্তত খুঁজে ফেরা বারবার মুঠোফোনের কথার বাক্সগুলোয়--
       হেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তোর টুকরো কথার শব্দাংশ
       -------যদি পাই খানিক কুড়িয়ে ।
       তবে,
       সযত্নে সাজিয়ে আমাদের গল্প লিখবো ছন্দবিহীন কবিতায়,
       ------শূন্যতার জলরঙে ।
     
       তারপর, 
       যেদিন তোর অনুভূতির প্রান্তরেখা ছুঁয়ে যাবে আমার কাব্যিকতা,
       অবজ্ঞাসূচক দৃষ্টিপথে অক্ষরমালাদের নির্লজ্জ বেহায়াপনায়
       আহত শিরা-উপশিরায় জমাট বাঁধা কালো রক্ত আছড়ে পড়বে
       -------তোর পাঁজর ভেদ করে রক্তাক্ত ফুসফুসে ;
       আর রুদ্ধশ্বাস অস্থিরতায় ক্ষোদিত হবে আমার বুকের ক্ষতচিহ্ন ;

       সেদিন তাচ্ছিল্যভরেই তোর বেওয়ারিশ খাতার পাতায় লিখে রাখিস--
     
       ---তোর ব্যস্ততায় আমার অপূর্ণ চাওয়াগুলো কথাহীন ।
       ---তোর ব্যস্ততায় আমার না বলা কথাগুলো বর্ণ খোঁজে ।
       ---তোর ব্যস্ততায় আমার বোবা আবেগগুলো অশ্রু ভেজা ।
       ---তোকে ছুঁতে চাওয়ার মুহূর্তরা তোকে ছুঁতে চাওয়ার আবেশেই দিশাহারা ।

***বোবা আর্তনাদ***

------@ #আবির_সাহানা


       সাবেকি বাড়িটার রঙচটা দেওয়াল ক্ষতবিক্ষত, ভগ্নপ্রায় ।
       চৌহদ্দি জুড়ে আগাছার বাড়বাড়ন্ত সীমাহীন ঔদ্ধত্যে ।
       শ্যাওলা ধরা ছাদে স্বৈরাচারী অর্বাচীন বটগাছ
চেনা চোখেও অচেনা অতীতের ছবি আঁকে স্বঘোষিত অধিকারে ।

       -------সদর দরজার জীর্ণ কপাট মরচেধরা,
       -------জানলার গরাদে মাকড়সার জালবিস্তার,
       -------মৃতপ্রায় ঝাউগাছটায় নিরুদ্দিষ্ট সবুজপত্র
কঙ্কালসার দীর্ণ প্রশাখার আর্তনাদ শুনিয়ে যায় ব্যর্থ অভিপ্রায়ে ।

       -------তেমনই আমার হারিয়ে যাওয়া শান্তির নীড়,
       -------রক্তাক্ত বুকে আকাঙ্ক্ষিত সুনিবিড় প্রলেপন,
       -------উষ্ণ নিশ্বাসে স্পন্দিত বুকের শীতল পরশ
ফিরে পাওয়ার অসহায় আর্তি আবর্তিত অবরুদ্ধ পাঁজর জুড়ে ।

***দুঃসহ কালযাপন***

-------@ #আবির_সাহানা


-------পর্ণমোচী বুকে জমাট রক্তের মর্মরধ্বনি ।
-------রাতজাগা চোখে অবান্ধব স্বপ্নবৃত্তান্ত ।
-------নির্বাক ঠোঁট হাজারো শব্দতরঙ্গে কম্পমান ।

নদীবক্ষে উত্তপ্ত বালিয়াড়ি মরা স্রোতের ছবি আঁকে--
-------জলরঙে ।
দ্বি-প্রাহরিক সূর্যের ভীষণতায় নিপীড়িত সবুজের অকালমৃত্যু--
-------পুষ্প-চন্দনে ।
বৃষ্টি-পিয়াসী চাতকও আজ ধ্বস্ত বুকে মুহ্যমান--
-------অ্যাসিড বৃষ্টি ।

বিদ্রূপাত্মক সঙ্গীতে বিকলাঙ্গ প্রারব্ধ জীবন ;
-------ঝাপসা চোখে দেখে
দূর দিগন্তব্যাপী আকাশ পৃথিবী মিলে মিশে একাকার--
-------সে তো ইচ্ছেখুশির কল্পসজ্জা ।
অবাস্তবের গোলাপ-শয্যায় স্বপ্ন-সুখের রাত্রিবাস পরে
কাঠিন্য ভরা বাস্তবতায়
বিয়োগান্ত পঞ্চাঙ্কের যবনিকাপাত ।

***ফিরে আয় বৃষ্টি হয়ে***

           -------@ #আবির_সাহানা


        তোকে ছেড়ে থাকার যন্ত্রণাটা শুধু তুই-ই বুঝিস ।
        ফেলে আসা প্রতিটা মুহূর্তকে সাজিয়েছি সবার অলক্ষ্যে
        ----ভালোবাসার রং-তুলিতে তুই-আমি মিলে ।
        তবু,
        সময়ের কাছে হার মানতে হয়েছে আমাদের কতোবার--
        আজও তেমন দুঃসহ ব্যবধান ;
        ভালো লাগা না লাগার দ্বন্দ্বে ভুল বোঝাবুঝি পাহাড়-প্রমাণ ।

        সবার মাঝেও আমি বড্ড একা তুই ছাড়া ।
        ঘড়ির কাঁটা সময় বয়ে যাওয়ার জানান দিলেও
        আমার সময় যেন আমার স্তব্ধীভূত বুকের মতোই
        ----নিশ্চল, গতিহীন, যন্ত্রণাক্লিষ্ট ।

    তোর নীরবতার চোরাবালিতে আমার দীর্ঘশ্বাস
---তোর বুকে আগুন হয়ে ঝরে ।
    আমার পোড়া মন তোর অজান্তে তোকে ঘিরে
---কান্না চোখে অসহায় ।
    আকুল আর্তি নির্বাক শব্দমিছিলে তোর দ্বারে
---ভিক্ষার ঝুলি হাতে ।

        ----থাকিস না এমন মুখ ফিরিয়ে ।
        জানি আমি--
আমার মতো তুইও পুড়ছিস, প্রতি মুহূর্তে কথাহীন শোকে ।
        ----থাকিস না আর মুখ ফিরিয়ে ।
        ফিরে আয়, আয় ফিরে বৃষ্টি হয়ে ;
        বুকের ছোঁয়ায় দেখ একটি বার--
তোকে ভাসাতে কতো না বলা কথা কান্না হয়ে জমে আছে
        তোর অরণ্যের মরু-বুকে-- নির্বাক শোকে ।

***মুখোমুখি***

-------@ #আবির_সাহানা


কতো কথা বলার ছিলো বাকি--
আকাশ নীলের চিকন সুতোয় একটা করে
শব্দের মালা গেঁথেছি তোর বুকের খোলা আঁচলে ;
সাজিয়ে তোলা বাক্যের সঙ্গমে সোনালি কাব্য লেখে
গাছের পাতার ফাঁকে উঁকি দেওয়া একফালি রোদ,
আবেগী লেখনী টুকরো চুমু এঁকে যায় বন্ধ মনের খাতায়,
শতচ্ছিন্ন গোপন কথারা সমবেত হয় অসম্পূর্ণ প্রচ্ছদে ।
দৃশ্যমান অবতরণিকায় সংকল্পিত প্রতিশ্রুতি,
সূচীপত্রের সৌন্দর্য-সজ্জায় লজ্জাবতী ভালোবাসা
অল্প অল্প করে গড়ে তোলে ধূসর প্রেমের ইমারত ।

অন্তিম প্রহরে মুখোমুখি আমি আর ভালোবাসা,
সাজিয়ে তোলা কাব্য-কথার আলতো ছোঁয়ায়
হৃদয়তন্ত্রীতে সুর তুলতে গিয়ে নিষ্কম্প অধরোষ্ঠ ;
নির্বাক চোখের বিহ্বল দৃষ্টিতে
মুহূর্তেকে এলোমেলো সুবিন্যস্ত অক্ষরমালা
ইচ্ছেডানা মেলে নিরুদ্দেশের উদ্দেশ্যে অজান্তেই ।

এখনও কতো কথা বলার আছে বাকি--
বনের পাখির পোষ মানা ঝরা পালকে
কালো দিঘীর জলে গলন্ত চাঁদের তরঙ্গমালায়
আবার সাজবে অগোছালো বর্ণমালার খেলাঘর,
অসম্পূর্ণ প্রচ্ছদে আঁকা হবে ভোরের কুয়াশা-লিপি,
তারপর মুখোমুখি ভালোবাসা, আমি আর প্রথম প্রহর ।

***একটা মৃত্যু চাই***

-------@ #আবির_সাহানা


আমি একটা মৃত্যু চাই...
না, তোর দেওয়া যন্ত্রণাগুলো থেকে বাঁচতে নয়,
"তুই" হয়ে জন্মাতে ।
তোর মতো করে তোর এই "আমি"-কে দেখতে চাই...
যে "আমি"-তে একটা "তুই" আছে...
রক্তপলাশ রাঙা "তুই" ;
ধূসর গোধূলি-রঙা "তুই" ;
কুয়াশা মোড়া ভোরের "তুই" ;
দিগন্তজোড়া আগুন-রঙা "তুই" ।
হ্যাঁ, আমি একটা মৃত্যু চাই...
না, তোর করা অবহেলাগুলো এড়িয়ে যেতে নয়,
"তুই" হয়ে জন্মাতে ।
যে "তুই"-এর কোথাও একটা
"আমি" থাকবে না ;
যে "তুই"-এর কোথাও একটা
"আমি" বাঁচবে না ;
যে "তুই"-এর কোথাও একটা
"আমি" ভালোবাসবে না.......